গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার ৫টি কারণ

গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার ৫টি কারণ

গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার ৫টি কারণ

বর্তমান পৃথিবী অনলাইন নির্ভর। এখানে ইন্টারনেট, গুগল অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, অনলাইন শিক্ষা এসব কিছু নরমাল বিষয়। অনলাইনে আয় করার জন্য এসব আমাদেরকে শিখতেই হবে।

অনলাইনে কাজ করে তারা হয়তো জানে অনেক সময় গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করা হয়। আসলে রিজেক্ট এমনে এমনে হয় না।

কিছু কিছু ভুল অথবা ব্লগে কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে অপ্রুভাল রিজেক্ট করে থাকে।

আজকের আমি সেই বিষয় সম্পর্কেই লিখতে বসেছি। কেন অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করা হয়ে থাকে? কি কারণে রিজেক্ট হয় ?

সেই কারণ গুলো নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন। জানতে হলে পুরো প্রতিবেদনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পরুন।

তাহলে দেরি না করে জেনে নেওয়া জাক কি কারণে গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করে।

 

অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার ৫টি কারণ

১. ব্লগের বয়স কম হওয়ার করণে

গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার প্রধান কারণ হতে পারে ব্লগের বয়স কম।

অনেক সময় দেখা যায় ব্লগের বয়স কম হলে অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট হয়। আসলে এই বিষয়টা অনেকেই জানে না।

না জানার কারণে ব্লগের বয়স কম থাকলেও গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভারের জন্য আবেদন করে। ফলে দেখা যায় যে অপ্রুভালটি রিজেক্ট করে দেয়।

তাই আপনারা যারা অপ্রুভারের জন্য আবেদন করবেন তারা এই বিষয়টাকে একটু গুরুত্বের সহকারে দেখবেন।

২. পোস্টের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে

অনেকেই মনে করেন যে, বেশি পোস্ট না হলেও মনে হয় আবেদন করলেই হবে। আসলে বিষয়টা এমন নয়।

আমরা যখন বেশি পোস্ট না করবো এবং বেশি পোস্ট ছাড়া আবেদন করবো তখন আমাদের কনটেন্টগুলোতে লো ভ্যালু

বা নো কনটেন্ট সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর আমি বেশ কিছু রিজেক্ট করার কারণ হিসেবে বিষয়টা দেখেছি যে,

তাদের কনটেন্টগুলো কম হওয়ার কারণে লো ভ্যালু আসছে। আবার তারা বেশি কনটেন্ট দিয়ে আবেদন করাতে অ্যাপ্রুভাল পেয়েছে।

এজন্য অবশ্যই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

কারণ এমনিতেই বাংলা কনটেন্টগুলোতে ইদানিং অ্যপ্রুভাল পাওয়া আগের থেকে সামান্য হলেও কঠিণ হয়ে যাচ্ছে।

অনেক সময় দেখা যায় যে ব্লগে পোস্টের সংখ্যা কম থাকতেই অপ্রুবালের জন্য আবেদন করে।

আসলে সাইটে কম পোস্ট থাকলে অপ্রুভাল রিজেক্ট করবে এটাই স্বাভাবিক।

তাই বলায় যায় যে অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার এটি একটি কারণ হতে পারে।

অপ্রুবারের জন্য আবেদন করতে হলে প্রায় ২৫-৩০টি পোস্ট করতে হবে। এছাড়াও পোস্ট গুলো ইন্ডেক্স হতে হবে।

তাই কম পোস্ট লিখে কখনই আবেদন করবেন না। তাতে রিজেক্ট করার সম্ভবনা থাকে।

 

>> গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার ৫টি কারণ

পোস্ট বা কনটেন্ট যাই বলি না কেন আমরা অনেকেই মনে করি এটা কোন বিষয় না। আসলে কনটেন্ট ই মূল ব্লগিং করার জন্য।

আপনি যত ভালো কনটেন্ট লিখতে পারবেন বিষয়টা আপনার জন্য ততটাই সহজ হয়ে যাবে।

একটা ভালো কনটেন্ট এর জন্য অনেক বেশি শ্রোতা আকৃস্ট হয়ে থাকে ব্লগিং এ ভিজিট করার জন্য।

আসলে ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য ভালো কনটেন্ট এর কোন বিকল্প নেই।

আপনি নিয়মিত ভালো কনটেন্ট পাবলিশ করেন তাহলে দেখবেন অটোমেটিকভাবেই আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়তে থাকবে।

আর ভালো কনটেন্ট ছাড়া আপনি ভালো বা বেশি ভিজিটর আশা করতে পারবেন না কখনও।

অনেকেই কনটেন্ট লিখার সময় কোন ধরনের রিসার্চ করেন না।

আসলে কনটেন্ট কেমন লিখতে হবে আর কেমন কনটেন্ট লিখলে সেটা দিয়ে বেশি ভিজিটর আসবে সেই বিষয়টা

আমাদেরকে রিসার্চ করার মাধ্যমেই নিয়ে আসতে হবে। কারণ কী-ওয়ার্ড প্লানার দিয়ে যখন আমরা কনটেন্ট এর মান যাচাই

বাছাই করবো তখন আমরা অবশ্যই সেটাকে একটু আপডেট করে নিবো।

আর কনটেন্ট এর প্রতি যদি আমরা রিসার্চ করি এবং সেভাবে লিখি তাহলে অবশ্যই ভালো করতে পারবো ব্লগিং এ।

 

৩. আর্টিকেল কম শব্দ দিয়ে লিখলে

২০২১ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুসারে গুগল চায় নতুন শব্দ।

আর নতুন শব্দ যদি আপনি গুগলের কাছে দিতে পারেন তাহলে আপনার সাইট কখনই রিজেক্ট করবে না।

আপনি যদি কপিরাইট বা স্পিন কনটেন্ট দিয়ে আবেদন করেন তাহলে তো সমস্যা হবেই।

মিনিমার একটা নতুন সাইটের জন্য প্রতিটি আর্টিকেলে শব্দ সংখ্যা হতে হবে ১ হাজারের বেশি। তবে এর কম না করাই ভালো।

এতে করে অনেক সময় রিজেক্ট করার সম্ববনা অনেকটাই বেশি থাকবে।

আসলে গুগল কখন কোন আপডেট নিয়ে কাজ করে সেটা আপনি নিয়মিত গুগল কে নিয়ে গবেষনা না করলে বুঝতে পারবেন না।

আর অবশ্যই আমাদেরকে গুগলের আপডেটগুলো নিয়মিতভাবে জেনে সেটার উপর কাজ করতে হবে।

গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য যদি কম শব্দ দিয়ে আর্টিকেল লিখেন তাহলে অপ্রুভাজ রিজেক্ট করার সম্ভবনা থাকে।

সাধারণত আর্টিকেল কমপক্ষে ৫০০ ওয়ার্ডের বেশি লেখা উচিত। কেননা বেশি শব্দের আর্টিকেলগুলো রিজেক্ট করে না।

বেশি শব্দের পাশাপশি আপনাকে রিড এবেলিটির দিকটিও লক্ষরাখতে হবে।

কারণ লেখার পাশাপশি রিডএবেলিটির কারণেও অনেক সময় রিজেক্ট করে থাকে। তাই বিষটি খুব গুরুত্বর সহকারে দেখবেন।

 

৪. উন্নত ডোমেন ব্যবহার না করলে

উন্নত বলতে টপ লেবেলে ডোমেইনকে বোঝানো হয়েছে। তবে সব সময় চেষ্টা করা উচিত .COM ডোমেইন দিয়ে কাজ করা।

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ডোমেইন হলো এইটা। এখানে গ্লোবাল ডোমেইন এবং এই ডো্েমেইনকে ইউজার ফ্রেন্ডলী ডোমেইনও বলা হয়।

এই ডোমেইনের আপনি যদি এসইও এর কাজ করেন তাহলে অনেক দ্রুত সাইট Rank করাতে পারবেন অন্য ডোমেইনের অপেক্ষা।

দেখা যাচ্ছে যে, আরও টপলেবেল ডোমেইন ব্যবহার করে আপনি আপনার সাইট ৬ মাস লাগলো Rank করাতে।

অথচ .COM ডোমেইন ব্যবহার করে সেই ৬ মাসের কাজটা আপনি ৩ মাসেই করে ফেলতে পারবেন।

অনেক সময় ভালো ডোমেন ব্যবহার না করলেও অপ্রুভাল রিজেক্ট করে থাকে।

তাই সবসময় সাইটে ভালো ডেমেন এবং থিম ব্যবহার করবেন।

অনেক সময় দেখা যায় যে একটি থিমের জন্য গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করে দেয়। তাই বিষয়টিকে গুরুত্বের সহকারে দেখবেন।

এছাড়াও আপনি যদি একই ডোমেন বারবার ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট অথবা ব্লক করে দিতে পারে।

>> গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল কোর্স করার ৫টি কারণ

 

৫. সাইটের লিংক শেয়ার করলে

অকে সময় দেখা যায় যে যে ব্লগের ভিউজ বাড়ানোর জন্য ব্লগের লিংক বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপ বা পেইজে শেয়ার করে থাকে।

আপনি যখন সাইটটি গুগলে আবেদন করবেন তখন যদি এমন কাজটি করেন তহলে কিন্তু আপনার অপ্রভাল রিজেক্ট করে দিবে।

তাই লিংক শেয়ার করা বন্ধা করুন। এবং যতটা সম্ভব হয় যখন আবেদন করবেন তখন সাইট ভিসিট করা বন্ধ রাখবেন।

অ্যাপ্রুভ রিজেক্ট করার এটি একটি উন্নতম কারণ হতে পারে। এছাড়াও লিংক শেয়ার করলে সাইট আপনার সাইটিকে ব্লক করেও দিত পারে।

তাই বেশি ভিউয়ের আশায় ব্লগের লিংক শেয়ার কবেন না বিশেষ করে আবেদন করার পর।

সাইটে বেশি লিংক শেয়ার করলে কি সমস্যা হয় আমরা অনেকেই জানি না বিষয়টা।

আসলে আপনি যখন আপনার সাইটে বেশি লিংক শেয়ার করবেন। তখন সেটা স্প্যামিং এর মত হবে।

আর গুগল স্প্যাম করা সাইট বা ডোমেইনকে মার্ক করে রাখে।

অনেক সময় বারবার রিজেক্ট করার পরেও যদি আবার আবেদন করা হয় তাহলে আবেদন করার যোগ্যতা কেটে দেওয়া হয়।

তাই এই বিষয়টাকে আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

একটা কনটেন্ট এ কিভাবে লিংক শেয়ার দিবেন বা কতগুলো লিংক দিবেন সেগুলোই কিন্তু এসইও এর একটা পার্ট।

আর আপনি কনটেন্ট লিখতে হলে তো অবশ্যই আপনাকে এটা শিখতে হবে। আবেদন রিজেক্ট করার পেছনে অনেক বড় বড় কারণ থাকে না আসলে।

আমরা ছোট ছোট কারনগুলো যদি ঠিক করে ফেলি তাহলেই এবং বিষয়গুলো ঠিক করে ফেলতে পারি।

 

শেষ কথা

বর্তমান সময়ে অনলাইনে সেক্টরে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেক্টর হলো এইটা। এখানে আপনি ইচ্ছা করলে অনেক বেশি পরিমাণে আয় করতে পারবেন।

তবে হ্যা অবশ্যই আপনাকে নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। অনলাইনে আমি যখন কাজ শুরু করি তখন আমি এত কিছু জানতাম না।

আমি করোনার সময়ে স্কুল বন্ধ থাকাতে অনলাইন সেক্টরে প্রবেশ করি। এই সময়ে অনেকেই আছেন অনেক কিছু শিখে ফেলেছেন।

আমি এত কিছু না জানলেও আস্তে আস্তে আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেকটাই জানতে ও বুঝতে পেরেছি।

এর মাধ্যমে আপনি রয়্যালিটি আর্নিং করতে পারবেন।

আপনারা যারা ওয়েবসাইট রিজেক্ট করার সমস্যার ভেতরে থাকেন তাদের জন্য উপরের এই কয়েকটি বিষয়কে লক্ষ রাখতে পারলে

আপনি আর এই ঝামেলায় পড়বেন না। প্রতিবেদনটি আপনার কাছে ভালো লাগলে কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন।

এছাড়াও যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জানার থাকলে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ

One Comment on “গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল রিজেক্ট করার ৫টি কারণ”

Leave a Reply

Your email address will not be published.